আরডুইনো বেসিক – ১ঃ শুরুর কথা


আরডুইনো হচ্ছে এভিআর মাইক্রোকন্ট্রোলাভিত্তিক একটি ডেভেলপমেন্ট প্লাটফর্ম। প্রতিটি আরডুইনো বোর্ডেই রয়েছে একটি করে এভিআর মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং মাইক্রোকন্ট্রোলারটিকে প্রোগ্রাম করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। আরডুইনোগুলোর বিভিন্ন ভার্শন বাজারে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। আরডুইনোর প্রচলিত এবং জনপ্রিয় ভার্শনগুলো হচ্ছে আরডুইনো উনো, মেগা, ন্যানো, লিওনার্দো, মিনি ইত্যাদি। আরডুইনোর সবচেয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে প্রচলিত ভার্শন হচ্ছে আরডুইনো উনো। আরডুইনো শেখা সাধারনত শুরু হয় এটি দিয়েই। আমাদের আরডুইনো বেসিক টিউটোরিয়াল সিরিজে এই বোর্ডটি নিয়েই আলোচনা করা হবে।
যেহেতু, আরডুইনোর মূলই হচ্ছে এভিআর মাইক্রোকন্ট্রোলার, সেহেতু আরডুইনো বুঝতে হলে এভিআর মাইক্রোকন্ট্রোলার সম্পর্কে জানা আবশ্যক। এভিআর মাইক্রোকন্ট্রোলারের উপর আমাদের একটি পুরো সিরিজ লেখা আছে। আরডুইনো শুরু করার আগে এই সিরিজের অন্তঃত প্রথম কয়েকটি চ্যাপ্টার যেমন, ইনপুট আউটপুট, এলইডি ব্লিংকিং, এডিসি এই চ্যাপ্টারগুলো পড়া থাকলে আরডুইনো বোঝা সহজ হবে।
নিচে একটি আরডুইনো উনোর মূল অংশগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলঃ


একটি আরডুইনো উনোকে মোটামুটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত করা যায়। সেগুলো হচ্ছে-


১)ইউএসবি কানেকটরঃ এই কানেকটরটি দিয়ে ইউএসবি কেবলের মাধ্যমে আরডুইনোকে কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টের সাথে যুক্ত করা হয় এবং আরডুইনোকে প্রোগ্রাম করা হয়। কম্পিউটার থেকে আরডুইনোতে প্রোগ্রাম আপলোড করা হয়ে গেলে কেবলটি খুলে ফেলে ডিসি অ্যাডাপটারের মাধ্যমে আরডুইনো বোর্ডকে সচল রাখা যায় অথবা কেবলটি লাগিয়ে রেখে কম্পিউটার/ল্যাপটপের মাধ্যমেই আরডুইনোতে পাওয়ার সরবরাহ করা যায়।


২)ডিসি জ্যাকঃ এই ডিসি জ্যাকটির মাধ্যমে ডিসি অ্যাডাপটার দিয়ে আরডুইনো বোর্ডে পাওয়ার দেওয়া যায়।


৩)প্রসেসরঃ আরডুইনো উনোর প্রসেসর হচ্ছে একটি ATmega328P মাইক্রোকন্ট্রোলার। এই মাইক্রোকন্ট্রোলারটিই হল সমস্ত বোর্ডের প্রাণ। আরডুইনো বোর্ডে বসানো এই মাইক্রোকন্ট্রোলারটিকে প্রোগ্রাম করেই আরডুইনো দিয়ে সকল কাজ করা হয়।


৪)ইউএসবি টু সিরিয়াল কনভার্টারঃ এটি হচ্ছে একটি ATmega16U2 মাইক্রোকন্ট্রোলার। এটি কাজ করে ইউএসবি টু সিরিয়াল কনভার্টার হিসেবে। এই মাইক্রোকন্ট্রোলারটি বোর্ডে থাকার কারনেই আরডুইনো বোর্ডকে ইউএসবি কেবল দিয়ে কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টে কানেক্ট করে প্রোগ্রাম করা যায়। কিছু কিছু আরডুইনো উনো বোর্ডে ATmega16U2 এর বদলে ইউএসবি টু সিরিয়াল কনভার্টার হিসেবে CH340G FT2332RL ইত্যাদি আইসি থাকে।


৫)ডিজিটাল পিনঃ এগুলো মূলত আরডুইনো বোর্ডে থাকা ATmega328P এর ইনপুট/আউটপুট পিন। আরডুইনো উনোর ডিজিটাল পিনের সংখ্যা ১৪টি। 0 থেকে 13।এই পিনগুলোকে ইচ্ছেমতো হাই(5V) বা লো(0V) করা যায়। এগুলোকে ইনপুট কিংবা আউটপুট দুইভাবেই কনফিগার করা যায়।


৬)অ্যানালগ পিনঃ ATmega328P এর এডিসি পিন হল ৬ টি। সেই কারনেই আরডুইনো উনোতে অ্যানালগ পিনের সংখ্যা ৬টি। A0 থেকে A5। এই পিনগুলোর মাধ্যমেই বিভিন্ন অ্যানালগ সেন্সরের ভ্যালু রিড করা হয়। যেমনঃ LM35 টেম্পারেচার সেন্সরের ভ্যালু রিড করতে চাইলে LM35 এর আউটপুট পিনকে A0 থেকে A5 এর মধ্যে যেকোনো একটি পিনে কানেক্ট করে আরডুইনোকে প্রয়োজনমতো প্রোগ্রাম করে নিলেই হবে।


৭)পাওয়ার পিনঃ আরডুইনো উনোর পাওয়ার পিনগুলো হলো-
VCC/5V: আরডুইনো উনো বোর্ডে 5 v পিনের সংখ্যা মোট তিনটি।
GND: আরডুইনো উনোতে গ্রাউন্ড অর্থ্যাৎ শূন্য(০) ভোল্ট পিন আছে মোট পাঁচটি।
3.3V: বোর্ডে পাওয়ার দেওয়া অবস্থায় এই পিনটিতে ৩.৩ ভোল্ট উৎপন্ন হয়।
Vin: ডিসি জ্যাক দিয়ে আরডুইনো বোর্ডে পাওয়ার দেওয়া অবস্থায় ইনপুট ভোল্টেজটি এই পিনে পাওয়া যাবে। মনেকরি, আরডুইনো বোর্ডটিকে একটি ১২ ভোল্টের ডিসি অ্যাডাপটার দিয়ে ডিসি জ্যাকের মাধ্যমে পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় Vin পিনের ভোল্টেজ হবে ১২ ভোল্ট। আরডুইনোতে ইউএসবি দিয়ে পাওয়ার দেওয়া অবস্থায় Vin=VCC অর্থ্যাৎ, 5V।
আরডুইনোর আরও কয়েকটি পিন এবং আরও কিছু অংশ আছে। তবে আপাতত এতটুকুই আলোচনা করা হল। পরবর্তী পর্বে আমরা আরডুইনোর সফটওয়্যারের সাথে পরিচিত হব।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.